পঞ্চগড়ে "কালো সোনায়" সম্ভাবনার হাতছানি, বাণিজ্য প্রায় ৭ কোটি টাকা

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

Date: বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
news-banner




উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে বেড়েছে ‘কালো সোনা’খ্যাত পেঁয়াজ বীজের আবাদ। ফলন ভালো হওয়ায় ফসলি মাঠে পরাগায়নের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। গত মৌসুমে জেলায় ২১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হলেও এবার তা বেড়ে ৩০ হেক্টরে পৌঁছেছে।

জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পেঁয়াজ বীজের চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আবাদ হয়েছে আটোয়ারী উপজেলায়। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রখর রোদে নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা হাতে হাতে পরাগায়নের কাজ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। এক বিঘা জমিতে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা।
 
পেঁয়াজ বীজ চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০০ কেজি পর্যন্ত বীজ উৎপাদন হতে পারে। আটোয়ারী উপজেলার রানিগঞ্জ এলাকার পেঁয়াজ বীজ চাষি বাবুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছর ধরে পেঁয়াজের বীজ চাষ করছি। প্রথম বছর লাভ হলেও গত বছর কিছুটা লোকসান হয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, তবে এবার ২ একর জমিতে উন্নত দুই জাতের বীজ আবাদ করে ভালো লাভের আশা করছি। বর্তমানে জমিতে হওয়া ফুলে হাত দিয়ে পরাগায়ন করা হচ্ছে, এতে ফলন ভালো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজার ভালো থাকলে দ্বিগুণ লাভের আশা রয়েছে।
 
কৃষক মানিক মিঞা জানান, তিনি সাধারণত বিভিন্ন ফসল আবাদ করেন। এবার বাবুল ইসলামের পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত দেখতে এসেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ভবিষ্যতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ বীজ আবাদ করার পরিকল্পনা করছেন।
 
বীজ ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরা জানান, এই ক্ষেতে কাজ করে তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ জন মিলে একসঙ্গে কাজ করেন। হাত দিয়ে পরাগায়ন করলে ফলন ভালো হয়, তাই তারা নিয়মিত এ কাজ করছেন।
 
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন। এসব বীজ বিক্রি করে প্রায় ৭ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ সময় সংবাদকে বলেন, জেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি আটোয়ারীতে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে, যাতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ আরও বাড়ে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং ভবিষ্যতে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে।
 
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে জেলায় ২১ হেক্টর জমিতে তাহেরীপুর ও ফরিদপুরী জাতের পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছিল। এবার সেখানে হাইব্রিড ও রানি ওয়ান জাতের বীজ ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর সম্ভাব্য উৎপাদন প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন এবং বাণিজ্য সম্ভাবনা প্রায় ৭ কোটি টাকা।

Leave Your Comments